ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুরুতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কম বলে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, শোধনাগারটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। ফলে এটি সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের হাইফা উপসাগরে অবস্থিত বাজান (Bazan) তেল শোধনাগার চলতি বছরের শুরুতে ইরানের দুটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলার পর দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন এবং শোধনাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাজান ক্ষয়ক্ষতিকে সীমিত বলে উল্লেখ করলেও নতুন তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।এর আগে বাজান তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জে জানিয়েছিল, একটি তেল সংরক্ষণ ট্যাংকের ছাদে সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারের গ্যাস টারবাইন, স্টিম বয়লার, বৈদ্যুতিক কক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আগে প্রকাশ করা হয়নি।ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বৃহৎ পরিসরের সংস্কার কাজের অনুমোদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, ২০২৮ সালের মধ্যে শোধনাগারটি পুরোপুরি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।বাজান শোধনাগার ইসরাইলের জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে শিল্পকারখানা, কৃষি, অবকাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারটির দৈনিক প্রায় ২৬ হাজার টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এবং বছরে প্রায় ৯৮ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করা সম্ভব।বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরাইলের কৌশলগত স্থাপনাগুলো যে মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার অনেক তথ্য কঠোর সামরিক সেন্সরশিপের কারণে এতদিন জনসমক্ষে আসেনি। নতুন তথ্য প্রকাশের পর হামলার প্রকৃত প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।