সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আখ চাষ। কম উৎপাদন খরচ, তুলনামূলক বেশি লাভ এবং চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এ লাভজনক ফসলের প্রতি। বিশেষ করে উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের শিমলাদহ গ্রামে আখের চমৎকার ফলন কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই নতুন নতুন কৃষক আখ চাষে যুক্ত হচ্ছেন।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চোখে পড়ে সবুজে মোড়ানো বিস্তীর্ণ আখের ক্ষেত। বাতাসে দুলতে থাকা সারি সারি আখ যেন কৃষকের স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর সমৃদ্ধির প্রতীক। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখে লাভ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক আবাদ বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছেন।শিমলাদহ গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, এ বছর আখের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। বাজারে উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে ভালো লাভ হবে। তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা করছেন তারা।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিপাইন, রংবিলাস ও ঈশ্বরদী-৪৫সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আখের আবাদ হয়েছে। এসব জাতের আখে ফলন বেশি হওয়ার পাশাপাশি রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন ঝুঁকি কমছে। সফল চাষিদের দেখে নতুন অনেক কৃষকও আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।এক কৃষক বলেন, “আগে ধান চাষ করতাম। কৃষি অফিসের পরামর্শে আখ চাষ শুরু করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। তাই ভবিষ্যতেও আখ চাষ চালিয়ে যেতে চাই।”উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, উন্নত জাতের ব্যবহার, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের ফলে উল্লাপাড়ায় আখের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমন এবং পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম বলেন, “উল্লাপাড়ায় আখ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।”কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, একসময় সীমিত পরিসরে আবাদ হলেও বর্তমানে উল্লাপাড়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার নাম আখ। কম খরচে অধিক লাভ, উন্নত ফলন এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় কৃষকরা দিন দিন এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা এবং উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছর আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় আখের আবাদ সম্প্রসারিত হবে।কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম এবং কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক সহযোগিতায় উল্লাপাড়ায় আখ চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, তা নিশ্চিত করা গেলে আখ চাষ এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং কৃষকের মুখে ফুটবে আরও বড় হাসি।