দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর প্রথমবারের মতো নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।নৈশভোজ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের এ মিলন দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সরকার গঠনের পর মিত্র দলগুলোর সঙ্গে এ বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক পরিবেশে সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।ব্রিফিংয়ের শুরুতেই তিনি জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদানও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আইনে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে এখনই আলোচনা না করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ নৈশভোজে ৪১টি রাজনৈতিক দলের ১৮৪ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং জমিয়তে ইসলাম অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।