দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও বাংলাদেশে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটির ১৫তম আসর। মূলত ২০২৫ সালে প্রতিযোগিতাটি হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে সূচি প্রকাশ করেছে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)।২০১৮ সালের পর আবারও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৩ ও ২০০৯ সালেও ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট। এবারের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে। আগামী ২৫ জুলাই টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন এবং ১ আগস্ট ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে সাফকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি চলছে দেশের প্রধান ফুটবল ভেন্যু জাতীয় স্টেডিয়ামে। দীর্ঘদিন সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ থাকার পর নতুন রূপে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামটি। ইতোমধ্যে এখানে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব ও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। তবে নতুন ঘাসে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় পুনরায় ঘাস লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট কিছু অবকাঠামোগত কাজও শেষ করা হচ্ছে।বাফুফের গ্রাউন্ড কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে স্টেডিয়ামটি বুঝে পাওয়া যাবে।স্টেডিয়াম প্রস্তুত হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডোতে তিন বা চার জাতির একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। এর মাধ্যমে মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি ও অবকাঠামো যাচাই করা হবে।এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়েছে। কারণ জাতীয় দলে যুক্ত হয়েছেন একঝাঁক প্রবাসী ফুটবলার। প্রথমবারের মতো সাফের মঞ্চে দেখা যেতে পারে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উন্নত টেকনিক্যাল দক্ষতায় তারা জাতীয় দলের শক্তি অনেকটাই বাড়িয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মাত্র একবার, ২০০৩ সালে ঢাকায়, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে। এরপর ঢাকায় আরও দুটি আসর অনুষ্ঠিত হলেও শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাই স্বাগতিক মাঠ, দর্শকদের সমর্থন এবং শক্তিশালী দল নিয়ে এবার নতুন করে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।যদিও ভারতের মতো শক্তিশালী দল, নেপাল ও মালদ্বীপের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। তবে হোম অ্যাডভান্টেজ ও বর্তমান দলীয় শক্তির বিচারে বাংলাদেশকে এবার অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।সর্বশেষ ২০২৩ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। এবার হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের উপস্থিতিতে বহুদিনের শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন আরও জোরালো হয়েছে।উল্লেখ্য, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সর্বাধিক ৯ বার শিরোপা জিতেছে ভারত। মালদ্বীপের অর্জন ২টি শিরোপা। আর বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা একবার করে এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।