দীর্ঘ তিন বছর রোদ, বৃষ্টি ও ঝড় উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা দক্ষিণ মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত সংবাদের পর উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে দুটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী এখন নিরাপদ পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।গত ৩ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ-এর ১২ পাতায় ‘খোলা আকাশের নিচে তিন বছর চলছে পাঠদান’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে সরকার প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের একতলা ভবন নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ২০২৪ সালের শুরুতে ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে একই বছর ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান চালিয়ে যেতে বাধ্য হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এডিবির অর্থায়নে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন দুটি কক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছে।সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন শ্রেণিকক্ষে আনন্দের সঙ্গে ক্লাস করছে। শিক্ষার্থী সৌরভ, জয়ন্ত কুমার ও নন্দী রানী রায় জানায়, দীর্ঘদিন কষ্ট করে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হয়েছে। নতুন শ্রেণিকক্ষ পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত।উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিবির অর্থায়নে একটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নজরে আসার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান করছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।