আওয়ামী লীগের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ (রোববার) ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।এর আগে গত ২১ জুন মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জিয়াউল আহসানের সাবেক দেহরক্ষী সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। তিনি ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলীর হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জিয়াউলকে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে হত্যা করতে দেখেছেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এর সময় পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরার নামে ৮ থেকে ১০ জনকে হত্যা করা হয়। তাদের ইনজেকশন প্রয়োগের পর পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন আর্মি ক্যাম্পের পাশের নদীতে সিমেন্টভর্তি বস্তার সঙ্গে বেঁধে মাথায় গুলি করে ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার সময় জিয়াউলের গাড়িতে অস্ত্র ও গুলি থাকলেও তা কখনো তল্লাশি করা হতো না বলে তিনি দাবি করেন।মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেন, র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে বেনজীর আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণের পর এডিজি হিসেবে জিয়াউল আহসান দায়িত্ব নেন এবং এরপর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।তিনি আরও জানান, জিয়াউল আহসান নিজ বাসভবনে সশস্ত্র প্রহরা, ব্যক্তিগত অস্ত্র সংরক্ষণ এবং সর্বত্র সিসিটিভি স্থাপন করেছিলেন। এসব সরিয়ে সামরিক বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন এবং আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।সাবেক সেনাপ্রধান জানান, জিয়াউলকে বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ব্রিগেডিয়ার জগলুলকে। পরে জগলুল তাকে জানান, ‘যার মাথা পাথর দিয়ে ঠাসা, তাকে বোঝানোর কোনো উপায় নেই।’জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া তাকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে অভিহিত করেন।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।