রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার দায়ে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক হৃদয় বেপারী ওরফে মো. হৃদয় মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরীর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) জানান, অপরাধের উদ্দেশ্য, সিসিটিভি ফুটেজে আসামির উপস্থিতি, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ফরেনসিক প্রমাণের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় আদালত পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। রায়ে ভিকটিমের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়েও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন নিরপরাধ নারীকে ঠান্ডা মাথায় জবাই করে হত্যা করা অত্যন্ত বর্বরোচিত এবং এটি ‘বিরল থেকে বিরলতম’ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমানুল করিম (লিটন) রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ রাজধানীর মধ্য বাড্ডার জে-৪২/১ নম্বর বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের সহোদর ভাই মো. আল মজিদ বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, আসামির স্বীকারোক্তি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের সাব-ইনস্পেক্টর মো. রিপন উদ্দিন হৃদয় বেপারীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।মামলায় অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যেই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। বিচার চলাকালে আদালত মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণ করেন। শেষে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।