গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে আমদানি করা প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও ব্যবহৃত পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ডেলিভারি গেট-৮ সংলগ্ন ইয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করেন।কাস্টমস সূত্র জানায়, Sardar Global Trade নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে Air Waybill No. 176-63518722-এর মাধ্যমে পণ্যচালানটি দেশে আনে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টস আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।পরে আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট Fahim 5 Star Ltd. ASYCUDA World System-এ Bill of Entry No. C-764177 (২৯ জুলাই) দাখিল করে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করে।তবে আগে থেকেই পণ্যচালানটি সম্পর্কে গোপন তথ্য থাকায় কাস্টমস গোয়েন্দারা চালানটি আটকে কায়িক পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষণার আড়ালে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা প্রচলিত আমদানি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।জব্দকৃত ১০১টি কার্টনের মধ্যে রয়েছে—ব্যবহৃত HP, Dell, Lenovo ও Microsoft ব্র্যান্ডের মোট ৪৫০টি ল্যাপটপ;৯৬৩ দশমিক ৮ কেজি অটোমোবাইল পার্টস;৬ টেরাবাইট ক্ষমতাসম্পন্ন ৯৬টি হার্ডড্রাইভ (HDD);২৯১ দশমিক ১৪ কেজি কসমেটিকস;৯৬টি ব্যবহৃত মিনি পিসি।কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, এসব পণ্যের মধ্যে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। ফলে শুল্ক-কর পরিশোধ করেও এগুলো আইনগতভাবে খালাসের সুযোগ নেই।তারা আরও জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কসমেটিকস এবং ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য নতুন হিসেবে বাজারজাত করে ভোক্তাদের প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।এ ছাড়া জব্দ হওয়া মোটর পার্টসগুলো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আমদানি করা কোনো যানবাহনের অংশ কি না, অথবা আলাদা চালানে চেসিস আনার কোনো চেষ্টা রয়েছে কি না—সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দায় নিরূপণ করে কাস্টমস আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।