ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।জোনায়েদ সাকি বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই অনুযায়ী রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এই পর্যায়ে আমরা গণতান্ত্রিক উত্তরণে যেতে পারব না।”তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে, যেখানে শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রজীবনে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হয়।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি। তবে এখন আরেক ধরনের নতুন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। তারা ধর্মীয় ও নিজস্ব নানা বয়ান ব্যবহার করে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। সরকার যখন জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।”তিনি বলেন, জাতীয় পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জনগণের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখবে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।‘গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলুন’ এবং ‘নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হোন’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ উদ্বোধন করেন শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা আয়েশা বিবি। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সংগঠনের প্রয়াত সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালে আন্দোলন করেছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। বিচার ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সংস্কারের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কম। তিনি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।সমাবেশ সঞ্চালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, জেন্ডারবিষয়ক সম্পাদক পপি রানী সরকার এবং দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।এ সময় সংগঠনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী, মনির উদ্দীন পাপ্পুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বাবা মাহবুবুর রহমানও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।