শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘মেধার কোনো ভিসা লাগে না। মেধাবীরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেতে পারে। তবে এখন সময় এসেছে রিভার্স ব্রেইন ড্রেনের। বিদেশে যাওয়া মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে এনে মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ গঠনে সম্পৃক্ত করতে হবে।’শনিবার (১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরতেন না। ফলে দেশে ‘ব্রেইন ড্রেন’-এর প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় এ ধারা পরিবর্তন করে বিদেশে অবস্থানরত মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে এনে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো প্রয়োজন।তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবসম্পদের কোনো অভাব নেই। বিশ্বের ৩০টিরও বেশি উন্নত দেশে জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় জনসংখ্যা কমছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে উৎপাদন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্ব নেতৃত্বের সক্ষমতা অর্জন করবে।শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানকার আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষকদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং অচিরেই কিউএস (QS) র্যাংকিংয়ে স্থান করে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রীস আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়ালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।