‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শিরোনামে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ আয়োজন শিশু শিল্পীদের পরিবেশনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের স্মৃতিচারণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।সকালে শিশু শিল্পীদের কোরআন তিলাওয়াত, জুলাইভিত্তিক গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে তাহসিন প্রিন্স ও ওরাকা বিন বাশার পরিচালিত ‘দ্য মিরর গেইম’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি জুলাইকে কেন্দ্র করে নির্মিত বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।দুপুর আড়াইটায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মূল পর্ব শুরু হয়। এতে অতিথিরা বক্তব্য দেন এবং জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অনুভূতি ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন।বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ধারণ করাতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। গ্রাফিতি, চিত্রাঙ্কন, শর্টফিল্ম ও চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের ইতিহাস ও মূল্যবোধ শিশু-কিশোরদের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ, দেশীয় ও মূল্যবোধনির্ভর সংস্কৃতির আলোকে গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে জুলাইয়ের বাস্তব ইতিহাস শিশুদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জুলাইয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শর্টফিল্ম ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানান তিনি।সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই’ নামটি উচ্চারিত হলেই ২০২৪ সালের আত্মত্যাগ ও রক্তঝরা দিনের স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ আয়োজন শিশুদের মধ্যে সেই চেতনা ও শহীদ পরিবারের আত্মত্যাগের স্মৃতি তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে বীর শহীদ আবদুল্লাহ আল তাহিরের মা এবং শহীদ জাবির ইব্রাহিমের পিতার আবেগঘন বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর ভাইস চেয়ারম্যান সিবগাতুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের, সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা, সাইমুমের উপদেষ্টা আজিজুর রহমান আজাদ, সাইদুল ইসলাম, এইচ এম আবু মুসা, এস এম ফরহাদ, জাকির হোসাইন এবং সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক হাফেজ নিয়ামুল হোসাইন। শিশু উপস্থাপকদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক উৎসব আরও দুই দিন চলবে।