সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, অতীতে বিশ্বজুড়ে হিটলার বা মুসোলিনির মতো রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্টরা এথনিক ক্লিনসিং বা জাতিগত নিপীড়ন চালালেও তারা নিজ দেশের অর্থ লুণ্ঠন কিংবা পাচার করেননি। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের মূল এজেন্ডাই ছিল দেশকে লুণ্ঠন করে আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চিত্রপ্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক চক্রান্ত ও বিশেষ পথে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে তারা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এ দেশের মানুষের ওপর সীমাহীন অত্যাচার ও রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। প্রাইমারি স্কুলের শিশু থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাংবাদিকদের তারা নির্বিচারে হত্যা করেছে।তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনতার প্রচ্ছন্ন শক্তির এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ। স্বৈরাচারী শাসক জনগণের এই সুপ্ত শক্তি বুঝতে না পেরে বারবার ‘আমি-ডামি’ ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করেছিল।ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে ভারতে অডিও বা ভিডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটি ভারত সরকারের দ্বিমুখী নীতির (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) বহিঃপ্রকাশ। কোনো দাগি আসামি ‘ভারতপ্রেমিক’ হলেই কি তার সাত খুন মাফ—প্রশ্ন তুলে তিনি এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সবশেষে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনর্প্রতিষ্ঠায় সাধারণ মানুষ যেভাবে অতীতে জীবন বাজি রেখে রাজপথে লড়াই করেছে, সেই লক্ষ্য অর্জনে তারা আবারও সমবেত হতে প্রস্তুত।