ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সরাইল): জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় সরাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা ও শহীদ এবং আহতদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ কি সত্যিই গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে?তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে এখনো ধনী-গরিব, সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান। সমাজের নানা স্তরে এসব বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।রুমিন ফারহানা বলেন, জুলাই আন্দোলনে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, সেটি সবার জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে পেরেছে কি না—সেই আত্মসমালোচনার সময় এসেছে।তিনি আরও বলেন, শুধু একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার প্রতিষ্ঠা করাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল না। মানুষের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র কতটা এগিয়েছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি হত্যা মামলাও ছিল। তাঁর গাড়িতে হামলা ও বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের ঘটনাও ঘটেছে। আল্লাহর রহমতে তিনি এখনো বেঁচে আছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মতামত দেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে দেওয়া বক্তব্য মুহূর্তেই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রযুক্তির এই সময়ে তথ্যপ্রবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের তথ্য জানার অধিকার সংরক্ষণ করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের অবদানের মর্যাদা রক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।