প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, "আপনার প্ল্যান দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হবে না। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ চাই। সে জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার অনতিবিলম্বে করতে হবে। হেলমেট বাহিনী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করবেন না।"বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে 'দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ' আয়োজিত 'শহীদদের স্মরণে দ্রোহের জুলাই' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, হবিগঞ্জে এক তরুণের চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপি দায় এড়াতে পারে না। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি অস্বীকার করে দায়মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।তিনি বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই ছিল রক্তাক্ত, আর ২০২৬ সালের জুলাইও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। হবিগঞ্জের ঘটনার মধ্য দিয়ে এর সূচনা হয়েছে। এরপর রাজধানীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া মাদ্রাসা ও ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।"বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল দখল, গেস্টরুমে নির্যাতন ও শক্তি প্রদর্শনের সংস্কৃতি ফিরে আসছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, "ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনীর মতো আবারও হেলমেট বাহিনী দেখা যাচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায় সরকার এড়াতে পারে না, তারেক রহমানও এ দায় এড়াতে পারেন না।"তিনি অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসায় হামলাকারীরা ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন না। তাদের নেতৃত্বে যুবদলের এক নেতা ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে মিলন বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম বিষয়ই ছিল সংবিধান সংস্কার এবং একজন প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে না পারার বিধান। কিন্তু বিএনপি নিজেদের ঘোষিত সেই অঙ্গীকারও মানছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, "জুলাইয়ের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এমন সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে।"জাতীয় সংসদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই ব্যর্থতার সূচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি পৃথক শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সরকারি দলের সদস্যরা একটি শপথ গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় বিধিব্যবস্থা কার্যকর করা হয়নি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মিলন বলেন, বেনজীরকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকার যে অবস্থান নিয়েছিল, পরে তার জামিনের পর ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ মামলাটিও সাগর-রুনি হত্যা মামলার মতো দীর্ঘায়িত হতে পারে।অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন দেশের তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে সরকারের জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে।