সাতক্ষীরায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের মাঝে সম্মানি ভাতা বিতরণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে আমন্ত্রণ না জানানোকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আলোচনা সভার শেষে জুলাই বিপ্লবে শহীদ আটজনের পরিবার এবং আহত ৮৭ জনসহ মোট ৯৫ জন জুলাই যোদ্ধার মাঝে সম্মানি ভাতা বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ ও পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম মঞ্চে উপস্থিত থেকে সম্মানি তুলে দেন। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাউকেই সম্মানি বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য মঞ্চে ডাকা হয়নি।এ ঘটনায় আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের উপেক্ষা করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একপর্যায়ে কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “মঞ্চে না ডাকার ঘটনা সত্য। এ কারণে রাজনৈতিক নেতারা অনুষ্ঠান থেকে চলে এসেছেন।”জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, “জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে আমরা অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই চলে এসেছি।”অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ রাজনৈতিক নেতাদের অনুষ্ঠান বর্জনের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করেননি। সবাই শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। শহীদ আটজনের পরিবারের সদস্যদের হাতে আমি এবং পুলিশ সুপার সম্মানি তুলে দিয়েছি।”