যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের (আরএমজি) সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই যায় মার্কিন বাজারে। তবে উচ্চ শুল্কারোপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি সামগ্রিকভাবে কমেছে।তবে এ সময় বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানিতে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বস্ত্র ও পোশাক দপ্তর (ওটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট পোশাক আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ কম। একই সময়ে পরিমাণের দিক থেকেও (বর্গমিটার হিসেবে) আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে গড় একক মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ।এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। তবে জুন মাসে বাংলাদেশ থেকে আমদানি হয়েছে ৭৬৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক, যা গত বছরের জুনের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।ওটেক্সার তথ্য বলছে, মূল্যের বিচারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে চীনের, যেখানে আমদানি কমেছে ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে এ হার ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।অন্যদিকে একই সময়ে কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।পরিমাণের দিক থেকে কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। বিপরীতে চীন থেকে ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, ভারত থেকে ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ আমদানি কমেছে।একক মূল্য বা ইউনিট প্রাইসের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে চীনের, যা ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এছাড়া কম্বোডিয়ার দর কমেছে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ভারতের ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে সমানভাবে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে।সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট মূল্য কিছুটা কমলেও তা চীন ও ভারতের তুলনায় অনেক কম হারে কমেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।