স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “কিসের হাসিনা? কোথায় বক্তব্য দিয়েছে? তার চেহারা কি দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের মানুষ কখনোই তাদের এ ধরনের রাজনীতি গ্রহণ করবে না।”শুক্রবার (৭ আগস্ট) কক্সবাজারে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই এবং তারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই বাংলাদেশের জনগণ তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেবে না। বিদেশে অবস্থান করে তারা মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিলেও সরকার সেগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এর আগে বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।এ সময় তিনি বলেন, কেবল ইট-পাথরের অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই পর্যটন উন্নয়ন সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কক্সবাজারের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের পুরো একশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যটনবান্ধব কার্যক্রম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ইচ্ছামতো বিভিন্ন এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছিল। পর্যটন শিল্পের বিকাশের স্বার্থে জরিপের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় স্থানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জিওসি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। সরকারও প্রয়োজনীয় এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সেনাবাহিনীকে অনুরোধ জানাবে। এর ফলে অপহরণের মতো অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান, কউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুজিবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।