দীর্ঘদিন লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর মহাসমাবেশে যোগ দিতে গত ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা ও নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে স্বল্প সময় অবস্থান শেষে আগামীকাল বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আবারও লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মইন জয় জানান, লন্ডনে ফিরে মাউন্ট ভার্নন হাসপাতালে আবারও বাবার চিকিৎসা শুরু হবে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর লন্ডনের ওই হাসপাতাল এবং মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এবার চিকিৎসার অংশ হিসেবে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করানো হবে।দেশে অবস্থানকালে ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে দেখা করতে চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেই তাঁর বাসায় যান। নায়িকা শবনম, সুচন্দা, চম্পাসহ অনেক শিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে জয় হাসিমুখে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাবার সঙ্গে তাঁদের কথা বলিয়ে দেন। পাশাপাশি বাবার পাশে থেকে অতিথিদেরও সময় দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।বাবাকে দেশের মানুষ ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের সহকর্মীরা যে এতটা ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন, তা দেশে এসে নতুন করে উপলব্ধি করেছেন বলে জানান জয়।গত ৯ আগস্ট রাতে ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি লাগছে। তিনি বলেন, ‘দেশে আসার পর আজ একটু বেশি আরাম বোধ করছি। ঘুমটা খুব ভালো হয়েছে। অনেকেই আসছেন, দেখা করছেন, কথা বলছি, ভীষণ ভালো লাগছে।’জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাঁর একমাত্র চাওয়া—সবার দোয়া। দ্রুত চিকিৎসা শেষ করে আবার দেশে ফিরতে চান বলেও জানান তিনি। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন আবার দ্রুত চিকিৎসার কাজ শেষে দেশে ফিরতে পারি। আমার দেশে থাকতেই ভালো লাগে।’বাবার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন ছেলে জয়ও। তিনি বলেন, ‘আব্বুর মুখের হাসিটাই যেন আমার প্রাণ। আব্বুকে হাসিখুশি দেখতে আমারও ভালো লাগছে। সবাই আমার প্রাণপ্রিয় আব্বুর জন্য দোয়া করবেন।’উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইলিয়াস কাঞ্চনের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্ক থেকে টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান।এরপর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা শুরু হয় তাঁর। টানা তিন মাস কেমোথেরাপির পাশাপাশি ওরাল থেরাপিও নিতে হয়েছে তাঁকে। সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নেওয়ার কথা জানা যায়। প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করার পর দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাস ওরাল থেরাপি নেন তিনি। সব মিলিয়ে তিন ধাপে প্রায় একশ কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে।চিকিৎসার পরবর্তী ধাপের জন্য এবার লন্ডনে ফিরে যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার প্রত্যাশা তাঁর।