স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের মূল পরিচয় ‘বাংলাদেশি’। দেশে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই; সবাই বাংলাদেশের ‘অধিবাসী’। সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত।বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসকারী সব নাগরিক সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজন সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সর্বস্তরের মানুষের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে নির্ধারণে সম্মত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য ও এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার অন্যতম মূল ভিত্তি।অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমতা নিশ্চিত করতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের কল্যাণে বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা সংবিধানেও স্বীকৃত।পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক রাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশে শত শত ভাষা প্রচলিত থাকলেও পৃথক ‘আদিবাসী’ সত্তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে জাতীয় মূলধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ (UNDRIP) প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহীত ওই ঘোষণার বিষয়ে বাংলাদেশ শুরু থেকেই একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল। ওই ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল এবং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রও এর বিরোধিতা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, ওই আন্তর্জাতিক ঘোষণা বা আইএলও কনভেনশন-১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদারও নয়।