সিরাজগঞ্জে অসহায় বৃদ্ধা জহুরার পাশে দাঁড়ালেন এমপি সেলিম রেজা ঘরের জন্য ২লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা
এইচএম মোকাদ্দেস, নির্বাহী সম্পাদক||
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৫:৫৭ সময়
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে জরাজীর্ণ একটি ছাপড়া ঘর। টিনের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। পলিথিন দিয়ে পুরো ঘরটি ঢেকে দেয়া হলেও ভারী বৃষ্টিতে রক্ষা পান না বৃদ্ধা জহুরা খাতুন। ঘরের আসবাবপত্র বলতে রয়েছে শুধু একটি চৌকি। তাতে খড়কুটো বিছিয়ে তার উপর একটি কাঁথা পেতে কোন রকমে শুয়ে থাকেন অসহায় বৃদ্ধা জহুরা বেওয়া। জরাজীর্ণ ওই ছাপড়া ঘরে পলিথিন মুড়ি দিয়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে দিন কাটানো অসহায় বৃদ্ধা জহুরা খাতুনের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়ালেন সিরাজগঞ্জ-১ কাজীপুর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সেলিম রেজা। তিনি অসহায় ওই বৃদ্ধার দায়িত্ব নিয়ে নতুন ঘর করে দেওয়ার জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া তার ভরনপোষণের দায়িত্ব নিয়ে চাল ডালসহ সারা মাসের বাজার করে দিয়েছেন এমপি সেলিম রেজা। অসহায় বৃদ্ধা জহুরা খাতুনের মানবেতর জীবন যাপনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সোমবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে সংসদ সদস্য সেলিম রেজা কাজীপুরের চরাঞ্চলে অবস্থিত নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের জজিরা গ্রামে বৃদ্ধা জহুরা খাতুনের বাড়িতে যান। এসময় তিনি ওই বৃদ্ধার হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন এবং চাল,ডালসহ পুরো মাসের বাজার তুলে দেন। এসময় তিনি ওই অসহায় বৃদ্ধা জহুরা বেওয়ার ঘর করে দেয়ার জন্য টিনসহ নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।জানাযায়, দেড় যুগ আগে বৃদ্ধা জহুরা বেওয়ার স্বামী আফসার আলী মারা যান। ভূমিহীন জহুরা দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ ও প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকার পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ছোট ছেলেটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে যে বাড়িতে তিনি থাকেন সেই জায়গাটিও তার নিজের না। গত কয়েক বছর যাবৎ জহুরা বেওয়া শয্যাশায়ী। তাকে দেখার মত কেউ নেই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে শোকে ভুগচ্ছেন।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী পলাশ শেখ বলেন, বৃদ্ধা জহুরা বেওয়ার পলিথিনে মোড়ানো জরাজীর্ণ ঘর দেখে সংবাদ প্রচার করা হলে আমাদের স্থানীয় এমপি সেলিম রেজা মহোদয় তার দায়িত্ব নিয়ে ঘর করে দেবার ঘোষণা দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-১ কাজিপুর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সেলিম রেজা বলেন, "স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিউজে বিষয়টি জানতে পেরে আমি আজকে বৃদ্ধা জহুরার বাড়িতে যাই। আপাতত টিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। যাতে বৃষ্টিতে ঘরে পানি না পড়ে। এরপর ঘর করার জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া ওই পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমি নিয়েছি আজকে চাল-ডালসহ পুরো মাসের বাজার করে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য সেলিম রেজা। স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এমন মানবিকতা দেখে তার নির্বাচনী এলাকার নদী ভাঙ্গন কবলিত চরাঞ্চলের মানুষের মনে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে এবং তিনি প্রসংশায় ভাসছেন।