জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন আসাদুল ইসলাম মুকুল। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে ধামরাই থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মুকুল সাভারের ঢাকা-১৯ আসনে গিয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিপির সাবেক এই নেতা। এর আগে তিনি এনসিপির হয়ে ধামরাই আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন এবং এলাকায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।এনসিপি ঢাকা-২০ আসনে মুকুলকে মনোনয়ন না দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদকে প্রার্থী ঘোষণা করে। এরপরই এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।মুকুলের দলবদল নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর তার দল পরিবর্তনের ঘটনা রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নির্বাচনী সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে মুকুলের বক্তব্য ভিন্ন।এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল খান বলেন, আসাদুল ইসলাম মুকুলের এনসিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তার দাবি, দলে মুকুলের এমন উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল না যে তার দলত্যাগে এনসিপি দুর্বল হয়ে পড়বে।অন্যদিকে বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে আসাদুল ইসলাম মুকুল বলেন, এনসিপি ছাড়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই। বিএনপির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি দলটিতে যোগ দিয়েছেন।বিএনপিতে কোনো পদ পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুকুল বলেন, তিনি আগে দলের হয়ে কাজ করবেন, এরপর দল তার কাজের মূল্যায়ন করবে। ধামরাই তার নিজ এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল সুযোগ দিলে ধামরাইয়ের মানুষের জন্য কাজ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি এনসিপির নেতাকর্মীদের মঙ্গল কামনা করেন।মুকুলের এনসিপি থেকে বিএনপিতে যোগদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধামরাই ও সাভারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।