ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য। তিনি বলেছেন, ভারতের সব ধর্মের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবক পাঠ করাই যথেষ্ট। কারণ, গানটির পরবর্তী কিছু অংশ এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী মানুষের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর এসব কথা বলেন।শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী কয়েকটি স্তবকে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। ফলে এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী মানুষের কাছে গানটির ওই অংশগুলো পাঠ করা কঠিন বা অস্বস্তিকর হতে পারে।তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলার ক্ষেত্রে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবকই তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য। গানটির সব স্তবক সবার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।শর্মিলা ঠাকুরের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভারতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থান নিয়েছে। এ নিয়ে বিজেপির নেতারা কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন।ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন এবং এর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।সূত্র: জি নিউজ ও সিটি এয়ার নিউজ