ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে ওয়াজ মাহফিলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে পার্শ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর গ্রামের একদল যুবক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরলাপাং গ্রামের মেঘনা নদীতীরবর্তী কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েকজন নারীসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ারও অভিযোগ রয়েছে।রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রোববার রাতে চরলাপাং গ্রামে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ শুনতে আসেন রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর গ্রামের কয়েকজন যুবক। সেখানে চরলাপাং গ্রামের যুবকদের সঙ্গে তাঁদের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে মির্জাচরের যুবকেরা গ্রামে ফিরে গিয়ে রাতেই দলবল নিয়ে নৌকাযোগে চরলাপাং গ্রামে আসে।অভিযোগ রয়েছে, এ সময় হামলাকারীদের হাতে পিস্তল, শর্টগানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। তাঁরা চরলাপাং গ্রামের মেঘনা নদীতীরবর্তী কয়েকটি বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে নারীদের মারধর এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।স্থানীয়দের দাবি, হামলার সময় চরলাপাং গ্রামের হোসেন মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, নছর মিয়া, খায়ের মিয়া, আবুল কাশেম ও উজ্জল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। এ সময় তাঁদের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।হামলাকারীরা আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পর নৌকাযোগে নদী পার হয়ে চলে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঘটনাটি ছিল দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেয়েও ভয়াবহ। হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র থাকায় তাঁরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হামলাকারীদের নাম-পরিচয় স্থানীয়দের জানা থাকলেও পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় কেউ প্রকাশ্যে তাঁদের নাম বলতে রাজি হননি।চরলাপাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেঘনা নদীতীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা প্রতিটি রাত উদ্বেগের মধ্যে কাটাচ্ছেন।নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, চরলাপাং গ্রামের ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।