দেশজুড়ে ডেঙ্গুর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুতে প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় ভিন্ন সেরোটাইপে দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। তাই ডেঙ্গু ভাইরাসের বিভিন্ন সেরোটাইপ, পুনঃসংক্রমণের ঝুঁকি এবং সতর্কতার বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি প্রধান সেরোটাইপ রয়েছে—ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। কোনো ব্যক্তি একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে সাধারণত ওই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে অন্য সেরোটাইপগুলোর যেকোনো একটির মাধ্যমে পরবর্তীতে আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।গত কয়েক বছর দেশে ডেন-২ সেরোটাইপের প্রাধান্য থাকলেও চলতি বছর ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেন-৩ সেরোটাইপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।দ্বিতীয়বার সংক্রমণে কেন ঝুঁকি বাড়েবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিন্ন সেরোটাইপে দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ক্ষেত্রে শরীরের পূর্ববর্তী অ্যান্টিবডির সঙ্গে ভাইরাসের মিথস্ক্রিয়ার কারণে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট (এডিই) নামের একটি প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর গুরুতর রূপ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।এ সময় ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তক্ষরণ ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগীর জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ জ্বরের সঙ্গে তীব্র শরীরব্যথা, পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট এবং অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।জ্বর হলে কী করবেনডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনএস১ ও সিবিসি পরীক্ষা করা যেতে পারে। জ্বর ও শরীরব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো ওষুধ সেবন না করাই নিরাপদ, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।রোগীকে পর্যাপ্ত তরল পান করাতে হবে। পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও পুষ্টিকর তরল খাবার গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে শুধু ঘরোয়া ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হবে।মশার বিস্তার রোধে সচেতনতা জরুরিডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা বা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা উচিত।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুতে দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও সচেতনতা, মশার বিস্তার রোধ এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা এড়ানোর সুযোগ রয়েছে।