মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতের কল্যাণ ও সঠিক জীবনযাপনের জন্য বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর হাদিসের বিশাল ভাণ্ডারে মানুষের চরিত্র, ইবাদত, তাকওয়া, পারস্পরিক আচরণ, রিজিক ও আখিরাতের প্রস্তুতি নিয়ে নানা উপদেশ রয়েছে।এসব উপদেশের মধ্য থেকে প্রচলিত ১১টি বিশেষ নির্দেশনা হলো—১. উত্তম চরিত্র অর্জনপরিপূর্ণ ঈমান অর্জনের জন্য উত্তম চরিত্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।২. তাকওয়া অবলম্বনসর্বাধিক জ্ঞানী বা আলেম হওয়ার জন্য আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জনের কথা বলা হয়েছে।৩. মানুষের কাছে হাত না পাতাসম্মান ধরে রাখতে অন্যের ওপর অযথা নির্ভরশীলতা ও মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।৪. বেশি বেশি জিকির করাআল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা লাভের জন্য অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।৫. অজুর সঙ্গে থাকার চেষ্টারিজিকের প্রশস্ততা কামনায় সর্বদা অজুর সঙ্গে থাকার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।৬. হারাম থেকে বেঁচে থাকাদোয়া কবুলের আশা থাকলে হারাম উপার্জন ও হারাম কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৭. পবিত্রতা অর্জন করাসহবাসের পর দ্রুত পবিত্রতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বান্দা পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে পারে।৮. জুলুম পরিহার করাকিয়ামতের দিন আল্লাহর নূর লাভের প্রত্যাশায় মানুষের ওপর জুলুম না করার নির্দেশনা রয়েছে।৯. ফরজ পালনে যত্নবান হওয়াআল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য ফরজ বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার কথা বলা হয়েছে।১০. বিপদে সবর করাদুনিয়ার বিপদাপদ ও পরীক্ষার সময়ে ধৈর্য ধারণ বা সবর করার মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।১১. গোপনে সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাআল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে গোপনে সদকা করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মানুষের ওপর রাগ পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ইসলামী শিক্ষায় এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ঈমান ও আমলকে সমৃদ্ধ করা, উত্তম চরিত্র গড়ে তোলা এবং মানুষের সঙ্গে ন্যায় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও হাদিসের শিক্ষা অনুসরণ করে সৎ ও কল্যাণময় জীবন গঠনের প্রতি মুসলমানদের উৎসাহিত করা হয়েছে।