বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের চরামদ্দি বাজার থেকে কাটাদিয়া বাজারের সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও নিচের মাটি সরে গিয়ে দেখা দিয়েছে ধস। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরামদ্দি ও কাটাদিয়া এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একটি অংশে সড়কের একাংশ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।কাটাদিয়া বাজারটি একটি সরকারি হাট হওয়ায় প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দুর্ভোগও দিন দিন বাড়ছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, চরামদ্দি ইউনিয়নের কাটাদিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনও একটি বড় সমস্যা। রাঙামাটি নদীর ভাঙনে অতীতে রাস্তা, বাজার ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাম্প্রতিক নথিতে কাটাদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় রাঙামাটি নদীর ভাঙন প্রতিরোধে অর্থ বরাদ্দের আবেদন থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙনের কারণে সড়কের কোনো কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে শুধু সড়ক সংস্কার করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা জরুরি।দ্রুত সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাঙামাটি নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও বড় হয়ে চরামদ্দি ও কাটাদিয়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।