উপজেলা প্রতিনিধি, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)জয়পুরহাটের কালাইয়ে কৃষকের উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূল সংরক্ষণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎচালিত ‘ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ চালু করা হয়েছে। মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় কৃষকেরা এখানে পণ্য সংরক্ষণ করে পরে সুবিধাজনক সময়ে বাজারজাত করতে পারবেন। এতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমার পাশাপাশি কৃষকের লোকসান কমবে এবং আয় বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।শুক্রবার দুপুরে কালাই হাটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় স্থাপিত ‘হাইব্রিড সোলার অপারেটেড’ ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।অনুষ্ঠানে আব্দুল বারী বলেন, উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পর এখন সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সৌরভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত এ মিনি কোল্ড স্টোরেজ কৃষকের আয় বাড়ানো, ফসলের অপচয় কমানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, মৌসুমি সবজি ও ফলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকেরা প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়েন। মৌসুমে উৎপাদন বেড়ে গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়ে, ফলে দাম কমে যায়। তখন অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে লোকসানে পণ্য বিক্রি করেন। মিনি কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় পণ্য সংরক্ষণ করে পরে বাজার পরিস্থিতি বুঝে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের পাশাপাশি ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় কৃষকেরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে পচনশীল শাকসবজি ও ফলমূল সময়মতো বিক্রি করতে না পারায় বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়। আবার বাজারে দাম কম থাকলে কোনো কোনো কৃষক ফসল বিক্রি না করে ফেলে দিতে বাধ্য হন।এ পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি এবং বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় ১৫ থেকে ২০ জন কৃষক মিলে একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনা করবেন।কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনূর রশিদ বলেন, ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ সরকারের প্রণোদনা কার্যক্রমের অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকের উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।তিনি বলেন, পণ্যভেদে কৃষকেরা এখানে দুই দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত শাকসবজি ও ফলমূল সংরক্ষণ করতে পারবেন। পরে বাজার পরিস্থিতি ও সুবিধাজনক সময় বিবেচনা করে সেগুলো বিক্রি করা যাবে। এতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং পচনশীল কৃষিপণ্যের অপচয়ও কমবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে উৎপাদনের মৌসুমে কৃষকেরা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালু হওয়ায় এখন তারা বাজারদর পর্যবেক্ষণ করে বিক্রির সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এতে কৃষকের দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়বে এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সী, ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী, আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন, কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনূর রশিদ, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম সরকারসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌরবিদ্যুৎচালিত এ ধরনের মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থানীয় কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। সংরক্ষণ সুবিধা বাড়লে কৃষকের লোকসান কমার পাশাপাশি বাজারে কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের অপচয় কমিয়ে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এটি ভূমিকা রাখবে।