বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।‘কন্সট্রাকশন অব ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) সোলার ফটোভোলটাইক গ্রিড-কানেক্টেড পাওয়ার প্ল্যান্ট অ্যাট ব্লক-বি, রামপাল’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।বিউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সভা করা হয়।প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।বিউবো বলছে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রামপালের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ওই লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।উল্লেখ্য, সুন্দরবনের কাছাকাছি রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের শুরু থেকেই পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ ও বিরোধিতা করে আসছেন দেশি-বিদেশি পরিবেশবাদীরা। সুন্দরবন থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান হওয়ায় কয়লার বর্জ্য, ছাই ও ধোঁয়ার কারণে সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরা হয়েছে।এরই মধ্যে একই এলাকায় বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়াকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।