চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করতে চেয়েছেন। স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর এখন আর বাসায় ফেরার তাড়া নেই জানিয়ে তিনি এ আবেদন প্রত্যাহারের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জামিন শুনানির আগে কথা বলার অনুমতি নিয়ে এ কথা বলেন দীপু মনি। এদিন তাঁর জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে দীপু মনি বলেন, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন। গত এপ্রিল মাসে তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে এখন তিনি আর জামিন চান না; বরং আবেদনটি প্রত্যাহার করতে চান।দীপু মনি বলেন, ‘এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই।’স্বামীর দীর্ঘ অসুস্থতার কথা তুলে ধরে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছর তিনি শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছেন বলেও জানান দীপু মনি।তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে প্রায় দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে আশ্রিত অবস্থায় থাকতে হয়েছে। ফলে স্বামীর যত্ন নিতে পারেননি। এ জীবন তাঁর স্বামী মেনে নিতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।দীপু মনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় চার মাস আগে তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন স্বামীর কাছে থাকার জন্য তিনি জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর জীবনের শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকতে পারেননি।আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।’দীপু মনির বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত। তাঁর আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে মামলার ক্ষেত্রে তাঁদের আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।পরে দীপু মনির জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।উল্লেখ্য, দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ গত ১৮ আগস্ট রাতে মারা যান।