পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেটার ইমরান খানের দীর্ঘ কারাবাস এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। ইমরান খান দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে তার দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মিয়াঁদাদ ছিলেন ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য। সেই বিশ্বকাপে ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে।২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০২৩ সাল থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।ইসলামাবাদে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে কথা বলেন মিয়াঁদাদ। ‘ন্যারেটিভ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইমরানের সততা নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরান একজন সৎ মানুষ এবং তিনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাকে মুক্তি দিলে কারও ক্ষতি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইমরানের কারাগারে থাকার বিষয়টি তাকে সবসময় ভাবায় উল্লেখ করে মিয়াঁদাদ বলেন, কারাগারে সাবেক সতীর্থের অবস্থা কেমন, সেই চিন্তা তার মনে সবসময় আসে। আবেগঘন বক্তব্যের একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।এদিকে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোর অভিযোগ তুলেছে ইমরানের দল। দলটির দাবি, সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকসহ একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য ‘শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে’ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানও। গত বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে লর্ডসে সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মাইকেল আথারটনের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, তাদের বাবার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।ক্রিকেট মাঠেও ইমরান-মিয়াঁদাদের জুটি ছিল পাকিস্তানের অন্যতম সফল জুটি। আশি ও নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানকে শক্তিশালী দলে পরিণত করতে দুজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও তাদের ব্যাটিং জুটি পাকিস্তানকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালের শুরুতে চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। পরে ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদের ১৩৪ রানের জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তান।দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়াঁদাদ তাই তার মুক্তির দাবিই জানিয়েছেন।