ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে নিজস্ব বাস সার্ভিস চালু করেছে একটি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে দূর-দূরান্ত থেকে কলেজে আসা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত-ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের খাসের হাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে কলেজটি।কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্লাস করতে আসা শিক্ষার্থীদের সময়মতো কলেজে পৌঁছানো এবং ক্লাস শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরাটা দীর্ঘদিন ধরে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তাদের ভাড়ায় চালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হতো। অনেক সময় প্রয়োজনীয় যানবাহন না পাওয়ায় ক্লাসে পৌঁছাতে দেরিও হতো।এ পরিস্থিতিতে কলেজের নিজস্ব বাস চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবন্তি ও ইকরাসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, দূরের এলাকা থেকে প্রতিদিন কলেজে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনেক সময় বাস বা অটোরিকশা না পাওয়ায় ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হতো। নিজস্ব বাস চালু হওয়ায় এখন সময়মতো কলেজে আসা এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরা সহজ হবে।কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমান ও খালেদ সাইফুল্যাহ বলেন, নিজস্ব বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের কষ্ট অনেকটাই কমবে। এর ফলে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহও বাড়বে।কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুঈনুদ্দীন হাওলাদার বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। দূর-দূরান্ত থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে আসতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। মোহাম্মদ শাহে আলম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাওয়া বাস সার্ভিস চালুর ফলে তাদের যাতায়াতের ক্লান্তি কমবে এবং পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।