গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জিয়া থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান—গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া।শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কারাবরণকারী জেলার পাঁচ বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মো. শরিফুল ইসলাম খান।সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি নিয়াজ মো. খান বিটুর সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আরেফিন।বক্তারা বলেন, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি জনগণের ভোটাধিকার। এর মাধ্যমে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পান।তারা আরও বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন। একই সঙ্গে নাগরিক অধিকারও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার যে ঝুঁকি নেন, তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কারাবরণকারী জেলার পাঁচ বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা এবং দায়িত্বশীল পেশাগত ভূমিকা পালনকারী সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান। আয়োজকরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি ভোটাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো মৌলিক বিষয়ে জনমত গড়ে তোলাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক পিপি মো. সফিকুল ইসলাম। রাজনৈতিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।