আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬: জুলুমের অবসান ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ইসলামের আহ্বান ,ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদএকজন মানুষ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলেন। পরিবারের কাছে নেই কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, নেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সংবাদ। দিন গড়ায়, মাস পেরোয়, কখনো বছরের পর বছর চলে যায়—কিন্তু অপেক্ষার শেষ হয় না। একজন স্বজনের জন্য এই অপেক্ষা শুধু দুশ্চিন্তা নয়; এটি অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও গভীর মানসিক বেদনার দীর্ঘ অধ্যায়। গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা একটি ব্যক্তির ওপর সংঘটিত অন্যায়কে ছাড়িয়ে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও মানবিকতার মানদণ্ডকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। একজন মানুষ কোথায় আছেন—এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার তাঁর পরিবারের রয়েছে। সত্য জানার অধিকার কোনো দয়া নয়; এটি মানুষের মৌলিক মর্যাদার অংশ। প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের দুর্ভোগ স্মরণ করা, সত্য অনুসন্ধানের গুরুত্ব তুলে ধরা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইসলামের আলোকে মানুষের জীবন, সম্মান, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম জুলুমকে প্রশ্রয় দেয় না, অন্যায়কে বৈধতা দেয় না এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমর্থন করে না। তাই গুম প্রতিরোধের বিষয়টি ইসলামের ন্যায়বিচার, মানবমর্যাদা, আমানতদারি, সত্যবাদিতা ও জবাবদিহির শিক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।মানুষের জীবন অত্যন্ত পবিত্রমানুষের জীবন আল্লাহর দেওয়া আমানত। কোনো ব্যক্তির জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—“তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।—(সুরা আন-নিসা:২৯) আরও বলা হয়েছে—যে ব্যক্তি কোনো প্রাণকে প্রাণের বিনিময় ছাড়া অথবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপরাধ ছাড়া হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করল।”—(সুরা আল-মায়িদা:৩২) এই নির্দেশনা মানুষের জীবনের মর্যাদা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব স্পষ্ট করে। জীবন রক্ষা ইসলামী শরিয়তের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য।জুলুমের কোনো বৈধতা নেইগুমের মতো ঘটনায় যদি কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে আটক, নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা তার অবস্থান গোপন করার মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে তা জুলুমের গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয়ই জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকারসমূহ হবে।—(সহিহ মুসলিম: ২৫৭৮) ইসলামের শিক্ষা হলো—ক্ষমতা থাকলেই কাউকে অন্যায় করার অধিকার পাওয়া যায় না। বরং ক্ষমতা যত বড়, দায়িত্ব ও জবাবদিহিও তত বড়।ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবেআল্লাহ তাআলা বলেন—নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দেবে এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচারের সঙ্গে বিচার করবে।—(সুরা আন-নিসা:৫৮) ন্যায়বিচার হলো ইসলামী সমাজব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে তাঁর বিষয়ে সত্য অনুসন্ধান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ন্যায়বিচারে পক্ষপাতের স্থান নেইইসলাম ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাত গ্রহণ করে না।আল্লাহ বলেন—হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং ন্যায়বিচারের সাক্ষ্য দাও। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার না করতে প্ররোচিত না করে।—(সুরা আল-মায়িদা:৮) কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান, মতাদর্শ, পেশা বা ব্যক্তিগত পরিচয় ন্যায়বিচারের পথে বাধা হতে পারে না। সত্যের মাপকাঠি সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সত্য জানার অধিকারগুমের ঘটনায় সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার শিকার হয় পরিবার। একজন স্বজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য না থাকলে পরিবার স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। তাঁরা একদিকে প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকেন, অন্যদিকে অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করেন।তাই কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে পরিবারের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা, তাঁদের যথাসম্ভব নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত রাখা ন্যায়সংগত ও মানবিক দায়িত্ব।পরিবারকে অন্ধকারে রেখে দেওয়া তাদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।সত্য গোপন করা অন্যায়ের পথ প্রশস্ত করেইসলাম সত্যকে গোপন করতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ বলেন—তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করো না।—(সুরা আল-বাকারা:৪২)কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানা থাকলে তা অন্যায়ভাবে গোপন করা কিংবা সত্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা সমাজে অবিচার বাড়িয়ে দিতে পারে।গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে সত্য অনুসন্ধান এবং তথ্যের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মিথ্যা ও গুজব থেকে সতর্ক থাকাগুমের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর মধ্যে সত্য, মিথ্যা, অনুমান ও অপপ্রচার—সবই থাকতে পারে।আল্লাহ তাআলা বলেন—“হে মুমিনগণ! কোনো ফাসিক ব্যক্তি যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখো।—(সুরা আল-হুজুরাত:৬) তাই কোনো নিখোঁজ ব্যক্তিকে নিয়ে যাচাইহীন সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। একটি ভুল তথ্য একটি পরিবারের দুঃখকে আরও গভীর করতে পারে।অপবাদ ও সম্মানহানি থেকে বিরত থাকানিখোঁজ ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে অনেক সময় নানা ধরনের অভিযোগ বা অনুমান ছড়ানো হয়। প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ইসলামী নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।কোরআনে আল্লাহ বলেন—হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ।—(সুরা আল-হুজুরাত:১২) তাই সত্য প্রতিষ্ঠার নামে অনুমানকে সত্য হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।সাক্ষ্য ও তথ্যের ক্ষেত্রে সততান্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সঠিক সাক্ষ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরিহার্য। আল্লাহ বলেন—ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থেকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা অথবা আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে হয়।—(সুরা আন-নিসা:১৩৫)কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানা থাকলে ব্যক্তিগত স্বার্থে তা বিকৃত করা উচিত নয়। সত্য সাক্ষ্য কখনো কখনো কঠিন হতে পারে, কিন্তু ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সত্য বলার সাহস প্রয়োজন।ক্ষমতা একটি আমানতইসলামে ক্ষমতা কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা একটি আমানত। মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা করা দায়িত্বের অংশ।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।—(সহিহ বুখারি: ৭১৩৮; সহিহ মুসলিম: ১৮২৯)এই হাদিস রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে পারিবারিক দায়িত্ব—সব ক্ষেত্রেই জবাবদিহির শিক্ষা দেয়।মজলুমের পাশে দাঁড়ানোইসলাম মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। কোনো ব্যক্তি বা পরিবার অন্যায়ের শিকার হলে তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং বৈধ উপায়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করা মানবিক ও ইসলামী দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন—সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে তোমরা একে অপরকে সহযোগিতা করো।—(সুরা আল-মায়িদা:২)গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সামাজিক সহমর্মিতা তাই অত্যন্ত প্রয়োজন।মজলুমের আহাজারিকে ভয় করারাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—মজলুমের দোয়া থেকে বেঁচে থাকবে; কারণ তার ও আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা নেই।—(সহিহ বুখারি: ১৪৯৬; সহিহ মুসলিম: ১৯) এ হাদিস জুলুমের ভয়াবহ পরিণতির প্রতি সতর্ক করে। মানুষের অধিকার নষ্ট করে সাময়িকভাবে কেউ পার পেয়ে গেলেও আল্লাহর বিচারের বাইরে কেউ নয়।মানবমর্যাদা রক্ষা করাআল্লাহ বলেন—আর অবশ্যই আমি আদমসন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।—(সুরা আল-ইসরা:৭০) মানুষের মর্যাদা রক্ষা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কাউকে অন্যায়ভাবে অপমান করা, নির্যাতন করা, ভয় দেখানো কিংবা তার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া মানবমর্যাদার পরিপন্থী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান হারাম।—(সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪)এই শিক্ষা মানুষের জীবন ও সম্মান রক্ষার ব্যাপারে ইসলামের কঠোর অবস্থান প্রকাশ করে।নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে দায়িত্বশীলতাকোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। পরিবারের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা, আইনানুগ তদন্ত করা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।এ ক্ষেত্রে গুজব, প্রতিশোধ কিংবা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করা উচিত।বিচারহীনতা সমাজকে দুর্বল করেকোনো গুরুতর অন্যায়ের প্রতিকার না হলে মানুষের মধ্যে আইন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে। ইসলামী সমাজব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে দুর্বল ব্যক্তি শক্তিশালীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা রাখতে পারে এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি নিজের কাজের জন্য জবাবদিহির বাইরে থাকতে না পারে।প্রতিশোধ নয়, সুবিচারগুমের মতো গুরুতর ঘটনার প্রতিকার অবশ্যই প্রয়োজন। তবে প্রতিকারের নামে নতুন অন্যায় সৃষ্টি করা ইসলামের আদর্শ নয়।আল্লাহ বলেন—কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার না করতে প্ররোচিত না করে।—(সুরা আল-মায়িদা:৮)অতএব সত্য উদ্ঘাটন ও অপরাধের বিচার হতে হবে ন্যায়সংগত, প্রমাণভিত্তিক ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে।সমাজে নিরাপত্তার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবেশুধু আইন করলেই নিরাপদ সমাজ তৈরি হয় না। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সব পর্যায়ে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা প্রয়োজন।শিশু-কিশোরদের ন্যায়বিচার, সত্যবাদিতা, মানবিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেও মানুষের অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন।ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার শিক্ষাইসলাম এমন একটি সমাজের কথা বলে যেখানে মানুষের জীবন নিরাপদ, সম্পদ সুরক্ষিত, সম্মান অক্ষুণ্ন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকবে। ক্ষমতাবান ও দুর্বল—উভয়ের জন্য আইনের নীতি সমান হবে।এ কারণে গুম প্রতিরোধের প্রশ্নে ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—তাকওয়া মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে, আমানতদারি দায়িত্বশীল করে, সত্যবাদিতা তথ্যকে নির্ভরযোগ্য করে এবং ন্যায়বিচার সমাজকে স্থিতিশীল করে।পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ আমাদের শুধু অতীতের বেদনাদায়ক ঘটনাগুলো স্মরণ করার সুযোগ দেয় না; বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করার সুযোগও দেয়।একজন মানুষ নিখোঁজ হলে তার পরিবার যেন অন্ধকারে না থাকে—এটি মানবিকতার দাবি। কোনো অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হবে—এটি ন্যায়বিচারের দাবি। সত্য জানা গেলে তা গোপন করা হবে না—এটি নৈতিকতার দাবি। আর কোনো মানুষকে অন্যায়ভাবে তার জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হবে না—এটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।গুমের অন্ধকার কেবল একজন মানুষকে আড়াল করে না; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, সমাজের আস্থা এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই গুম প্রতিরোধে প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবিক আচরণ, তথ্যের স্বচ্ছতা, সামাজিক সচেতনতা এবং সর্বোপরি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা।আমাদের প্রত্যাশা—কোনো পরিবার যেন প্রিয়জনের সন্ধানে অনিশ্চয়তার দীর্ঘ রাত পার না করে। কোনো মানুষ যেন অন্যায়ভাবে অদৃশ্য হয়ে না যান। কোনো সত্য যেন ক্ষমতা বা প্রভাবের কারণে চাপা না পড়ে। আর কোনো মজলুম যেন ন্যায়বিচারের আশায় হতাশ না হন।গুমের সংস্কৃতির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হোক নিরাপত্তার সংস্কৃতি; ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবর্তে ফিরে আসুক আস্থা; অন্যায়ের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়; আর মানবিক মর্যাদা, সত্য ও সুবিচার হয়ে উঠুক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬-এ এটাই হোক আমাদের মানবিক প্রত্যাশা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের দৃঢ় অঙ্গীকার।লেখক : কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি ইমেইল : drmazed96@gmail.com