হরমুজ সংকট: সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশকে এলএনজি দিতে পারবে না কাতার
প্রথম দর্পণ, জাতীয় ডেস্ক||
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৬ সময়
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের পরও বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি। পাকিস্তানকেও অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ক্রেতাকেও একই ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন শুক্রবার জানিয়েছে, কাতারএনার্জি তাদের আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ স্থগিতের কথা জানিয়েছে। এসব কার্গো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা ছিল।ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে দোহা নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণে ছাড়ের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কাতারএনার্জি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৪ মার্চ কাতারএনার্জি এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে। এরপর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ওই সিদ্ধান্তের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হচ্ছে।ক্ষতিগ্রস্ত কাতারের এলএনজি অবকাঠামোমার্চে কাতারএনার্জির রাস লাফান স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, ওই হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে।এরপর জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেক্কায়াত’ হামলার শিকার হয়। কাতার এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে। হামলায় জাহাজটির বাম পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।এর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে কাতারের নিয়মিত এলএনজি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।ব্যাপক কমেছে এলএনজি রপ্তানিআইসিসের তথ্যের বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।এ পরিস্থিতিতে কাতারের গ্যাস বিক্রি থেকে আয় কমেছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশের জন্য কাতারের এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের সময়সীমা সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত বাড়ানোয় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।