তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে আবারও সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন জেলে-বাওয়ালিরা। দীর্ঘ বিরতির পর পাস হাতে বনে ফেরার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে বনজীবীদের মধ্যে। তবে প্রথম দিনই টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেককে অপেক্ষা করতে হয়েছে। একই কারণে পর্যটকদের উপস্থিতিও ছিল কম। জীবিকার তাগিদে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন অনেকে।সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে চলতি মৌসুমে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য ২ হাজার ৯৩৮টি বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) নবায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫৯টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে চার শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, পর্যটকদের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে সকাল থেকে বৃষ্টি থাকায় প্রথম দিনে পর্যটকদের তেমন আনাগোনা দেখা যায়নি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকায় জেলে-বাওয়ালিদের কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। শ্যামনগরের জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পাস বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগে থাকতে হয়েছে। এখন পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও বনে যেতে হবে। সুন্দরবনে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে।তবে বনে ফেরার আনন্দের পাশাপাশি জলদস্যু ও বনদস্যুদের ভয়ও রয়েছে জেলেদের মধ্যে। এক জেলে বলেন, তিন মাস পর পাস পেয়ে তারা খুশি হয়ে বনে যাচ্ছেন। কিন্তু দস্যুদের ভয় রয়েছে। সুন্দরবনে না গেলে সংসার চলে না। তাই ভয় থাকলেও জীবিকার তাগিদে বনে যেতে হচ্ছে।বনজীবীদের অভিযোগ, বিএলসি নবায়নের সময় সরকারি খরচের বাইরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে। এতে তাদের বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটন নৌকার মাঝিরাও অপেক্ষায় রয়েছেন। মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর মঙ্গলবার তারা পাস পেয়েছেন। এতে তারা খুশি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আপাতত নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া ভালো হলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা এসেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সুন্দরবনের কাছাকাছি এসে যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি থামলে আবার বনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ দল কাজ করেছে। বর্তমানে যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে ও বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে আবার খুলেছে সুন্দরবনের প্রবেশপথ। এতে জীবিকার আশায় উপকূলের বনজীবীরা ফিরছেন বনে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও উন্মুক্ত হয়েছে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।