পিরোজপুরের নেছারাবাদে ছারছিনা দরবার শরিফসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ। তাঁর তাৎক্ষণিক নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের সহায়তায় নদী থেকে এসব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।মঙ্গলবার দুপুরে নেছারাবাদ উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে বরিশালে ফেরার পথে সন্ধ্যা নদীতে বর্জ্যের স্তূপ দেখতে পান বিভাগীয় কমিশনার।নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ নেছারাবাদ উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে বরিশালে ফেরার পথে ছারছিনা দরবার শরিফসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে নদীতে ফেলে রাখা এসব বর্জ্য দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন।তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশের পর এক ঘণ্টার মধ্যেই মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় মাছ ধরার জাল ব্যবহার করে নদী থেকে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকের বোতল অপসারণ করা হয়।সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও বলেন, ছারছিনা দরবার শরিফের ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু সেগুলো নদীতে ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে দরবার শরিফ কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানিয়েছে।এ বিষয়ে ছারছিনা আলিয়া মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদরাসা ক্যাম্পাসের ময়লা-আবর্জনা প্রতিদিনই পরিষ্কার করা হয়। তবে মঙ্গলবার বৃষ্টির কারণে নদীর তীরে স্তূপ করে রাখা ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকের বোতল পুড়িয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। কোনো কারণে সেগুলো নদীতে গিয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে উপজেলা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে নেছারাবাদ এসিল্যান্ড কার্যালয় পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে ছারছিনা মাজারের সামনে মাদরাসাসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে হাজার হাজার প্লাস্টিকের বোতলসহ বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ভাসতে দেখেন। এতে নদী ও পরিবেশ—দুই-ই দূষিত হচ্ছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এসিল্যান্ডকে জানিয়ে নদী পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন দরবার শরিফের ছাত্র-শিক্ষকদের সহায়তায় এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে।তিনি আরও বলেন, ছারছিনা দরবার শরিফের মাহফিলে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম হয়। তাই পরিবেশ দূষণ রোধে আগামী সপ্তাহে মাদরাসার সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে পরিবেশ সচেতনতাবিষয়ক একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে। শুধু নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেই হবে না, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে।এ ধরনের দূষণ রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিভাগীয় কমিশনার।