মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজে শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এরপর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রীও দেশটি সফর করেন। এর ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, গত অর্থবছরে চাকরির উদ্দেশ্যে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে গেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবে ৬ লাখ ৪৬৬২ জন, কাতারে ৮৯ হাজার ২৩ জন, সিঙ্গাপুরে ৭৫ হাজার ৪১ জন, মালদ্বীপে ৪২ হাজার ১৩০ জন এবং কুয়েতে ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন গেছেন।বজ্রপাতে ১৬১ মৃত্যু, পাহাড়ধসে নিহত ২৭কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দেশে প্রতিবছর গড়ে ৩৬৫ জন বজ্রপাতে মারা যান।স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪৬ জেলায় বজ্রপাতে ১৬১ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে চার জেলায় পাহাড়ধসে ২৭ জন নিহত ও ৫২ জন আহত হয়েছেন।এ ছাড়া মে মাসে ভারী বর্ষণের কারণে হাওরে বন্যায় সাত জেলার কৃষি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ১৫৪ টাকা। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।ভূমিকম্প মোকাবিলায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির উদ্যোগসংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ভূমিকম্পের পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি ভিত্তি গড়ে তোলার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় কার্যকরভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব সরঞ্জামের তালিকা বেশ বড়। ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম কিনেছে। সেগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আরও কিছু সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে থাকা দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সরঞ্জামেরও তালিকা তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।