সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন ও নতুন মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা বলে এক গ্রাহকের কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার পরও কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুমোদিত এক ইলেকট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধে।অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানের নাম আল-আমিন আলী। তিনি সলঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গা থানার চড়বিলা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ইসরাফিল তার বসতবাড়িতে নতুন পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য ইলেকট্রিশিয়ান আল-আমিন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় আল-আমিন নিজেকে পল্লী বিদ্যুতের ‘ঠিকাদার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন এবং দুটি নতুন মিটার সংযোগ দ্রুত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ইসরাফিলের কাছ থেকে তিনি ২৮ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।তবে টাকা নেওয়ার পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো বৈধ মিটার সংযোগ পাননি ইসরাফিলের পরিবার। সরেজমিনে চড়বিলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সরকারি বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের পরিবর্তে একটি অস্থায়ী কাঠের খুঁটি দাঁড় করিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টেনে রাখা হয়েছে। ওই লাইনে কোনো বৈধ মিটারও দেখা যায়নি।ভুক্তভোগী ইসরাফিল অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি নিয়মে মিটার পাওয়ার আশায় কষ্টার্জিত ২৮ হাজার টাকা আল-আমিনের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি শুধু আজ দেবেন, কাল দেবেন বলে ঘুরাচ্ছেন। বিদ্যুতের বৈধ সংযোগ না পাওয়ায় আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। তার ওপর কাঠের খুঁটি দিয়ে যেভাবে বিদ্যুৎ লাইন টেনে রাখা হয়েছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”এদিকে, পল্লী বিদ্যুতের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান পরিচয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুত বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।তবে ২৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান আল-আমিন আলী। তিনি বলেন, “মিটারের সংযোগ দেওয়ার জন্য আমি ৬ হাজার টাকা নিয়েছি। কিন্তু তাদের আবেদনটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।”এ বিষয়ে জানতে চাইলে সলঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। এমনটি হয়ে থাকলে এবং কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”