চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রোববার সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মানুষের ওপর ঋণের বোঝা কমাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।তিনি বলেন, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের প্রয়োজন কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ও কম গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতে সরকারের অর্থের ওপর চাপ কমবে।ঋণের সুদের হার ও পুনর্বিত্তায়নের ঝুঁকি কমাতেও ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের বাজার সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া নিয়ন্ত্রণেও নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফার হার বাজার পরিস্থিতি ও প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে সরকারের সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঋণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে।এ ছাড়া অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ নেওয়া ঠেকাতে প্রতিবছরের জন্য ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হবে। নির্ধারিত ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঋণ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।