চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, মহাসড়কে ব্যারিকেড, যানবাহন ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার চারজন হলেন—মো. হানিফ, মো. সাদেক, কামরুল হাসান ও মো. রিপন। বুধবার তাদের চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা কাটা বন্দুক, ১১টি ধারালো ছুরি, তিনটি কিরিচ, একটি দা ও ১৫টি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকা ও আশপাশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় কয়েকজন যুবককে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাণ্ডব চালাতে দেখা যায়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।পরে এসব ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান চালায় পুলিশ।মামলার বাদী ও সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী বলেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার চারজনকে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, মামলায় ২৪ জন এজাহারনামীয় এবং ১৪০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস এবং সংঘর্ষে অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।