কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন দুর্জয় মোড়ের নূরানী মসজিদের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা এনসিপির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল হক জয়সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির নেতা এন কে সোহেল ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলসহ অন্যরা।প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ভৈরবে নাগরিক সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে ৪০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো নাগরিকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর শামিল।তারা বলেন, পৌরসভায় কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তাদের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হোল্ডিং ট্যাক্স ৪০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, জনগণের সক্ষমতা বিবেচনা না করে বাড়ানো এই কর তারা মেনে নেবেন না। বর্ধিত কর প্রত্যাহার অথবা সহনীয় পর্যায়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তারা।প্রশাসনের ব্যাখ্যাএদিকে বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ।‘উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিক সমাজ’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রতি পাঁচ বছর পরপর হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের (রি-অ্যাসেসমেন্ট) নির্দেশনা রয়েছে। চলতি বছরে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।ইউএনও বলেন, পৌরসভার চলতি বছরের প্রায় ৮০ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেটের বিপরীতে হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে আদায়ের পরিমাণ ৫ কোটি টাকারও কম। কর আদায়ের সক্ষমতা বা পারফরম্যান্সের ওপর বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। কর আদায় বাড়ানো না গেলে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পে প্রত্যাশিত বরাদ্দ পাওয়া কঠিন হতে পারে।তিনি আরও জানান, হোল্ডিং ট্যাক্সের নোটিশের বিরুদ্ধে নাগরিকদের আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপত্তি দাখিলের পর শুনানির মাধ্যমে বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।নাগরিকদের আপত্তি ফরম ও শুনানির প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হলে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
ফলে একদিকে বর্ধিত হোল্ডিং ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবিতে নাগরিকদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ, অন্যদিকে পৌরসভার কর পুনর্মূল্যায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—দুই পক্ষের অবস্থান ঘিরে ভৈরবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।