টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা নবম ও দশম শ্রেণির সরকারি পাঠ্যবই ভাঙারি হিসেবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইব্রাহীম হোসেন নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ২ হাজার ২৬২টি সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধার করা হয়েছে। বইগুলোর আনুমানিক ওজন ৮০০ কেজি।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে ভ্যানযোগে বই অন্যত্র নেওয়ার সময় ইব্রাহীমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে মধুপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ করে তাকে হেফাজতে নেয়।উদ্ধার করা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘English Grammar and Composition’ ৬০০টি, ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ ৪৬৮টি, ‘গণিত’ ৩১২টি, ‘বাংলা সাহিত্য’ ১৫০টি এবং ‘বাংলা সহপাঠ’ ৪২০টি। সবগুলোই নবম ও দশম শ্রেণির ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সরকারি পাঠ্যবই।স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহীম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবই সংগ্রহ করে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে আসছিলেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ইব্রাহীমের প্রাথমিক বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদ তার কাছে প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে এসব বই বিক্রি করেছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে বইগুলো বিক্রির কোনো অনুমোদন বা বৈধতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।এদিকে বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক সুপারভাইজার মহিউদ্দীন দাবি করেন, তার অগোচরে নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদ এসব বই সরিয়ে থাকতে পারেন। অন্যদিকে ইব্রাহীম দাবি করেছেন, শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষেই তিনি বইগুলো সংগ্রহ করেছেন।ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। পরে তাদের উপস্থিতিতে বইগুলো জব্দ করা হয় এবং ইব্রাহীমকে মধুপুর থানায় পাঠানো হয়।মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি পাঠ্যবই কীভাবে গুদাম থেকে বাইরে গেল, কার মাধ্যমে গেল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা এসব বই কোথা থেকে এবং কীভাবে বাইরে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বাদী হয়ে মধুপুর থানায় নিয়মিত মামলা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।