গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার অদম্য তরুণী আয়েশা আক্তার জন্মগতভাবে দুই হাতবিহীন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে পায়ের আঙুলের সাহায্যে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন, ব্যবহার করেছেন মোবাইল ও কম্পিউটার, এমনকি করেছেন ইট ভাঙার মতো কঠিন কাজও। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এবার সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গাইবান্ধা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন আয়েশা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার উদ্যোগে আয়েশার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার জীবনসংগ্রাম ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।পায়ের আঙুলে লেখাপড়াজন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আয়েশাকে। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়। তবে কোনো প্রতিকূলতাই তাকে থামাতে পারেনি। পায়ের আঙুলের সাহায্যে দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি চালিয়ে যান পড়াশোনা।পা দিয়ে কলম ধরে ২০১২ সালে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।আয়েশার লক্ষ্য ছিল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংগ্রামী মায়ের মুখে হাসি ফোটানো। সেই লক্ষ্যেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে গেছেন তিনি।গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কর্মসংস্থানআয়েশার জীবনসংগ্রামের কথা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আয়েশা।তার এই অর্জনকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা ও কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আয়েশার জীবনসংগ্রাম অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ।‘শারীরিক অক্ষমতা মানুষকে থামাতে পারে না’সাঘাটার ভরতখালী এলাকার গণমাধ্যমকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান ফিলিপস বলেন, শারীরিক অক্ষমতা মানুষকে থামাতে পারে না। অদম্য ইচ্ছাশক্তি মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে—আয়েশা তার প্রমাণ।উদয়ন মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, হাত না থাকলেও আয়েশার একাগ্রতা ও ইচ্ছাশক্তি তাকে সফলতা অর্জনে সহায়তা করেছে।সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, আয়েশার বিষয়টি জানার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজখবর রাখা হয়েছে। তিনি আয়েশার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।তথ্যসূত্র: আমার দেশ, প্রকাশিত প্রতিবেদন; স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, উদয়ন মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য।