সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর নমিনি বা স্পাউসের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা অনুমোদন এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক ভার্সন চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. সুরাতুজ্জামান। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।নমিনির পেনশন ৮০ বছর পর্যন্তনতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্পাউস বা নমিনি সর্বোচ্চ ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন। তাঁর মৃত্যুর পর নমিনি বা স্পাউস ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত এ সুবিধা ভোগ করবেন।বিনিয়োগে মুনাফা ১১.৭২ শতাংশ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা হয়েছে। সভায় গ্রাহকদের এই মুনাফা প্রদানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।চালু হচ্ছে শরিয়াহভিত্তিক স্কিমসর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় ইসলামিক ভার্সন চালুরও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, শরিয়াহভিত্তিক এ স্কিম দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, স্কিমটির কাঠামো ও পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে।৫৫ বছর বয়সে পেনশন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নিপেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পর তাঁর মতামত নিয়ে পরবর্তী গভর্নিং বডির সভায় বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করা হতে পারে।বর্তমানে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছরই রয়েছে।সরকারি কোম্পানির কর্মীরা ‘প্রগতি’ স্কিমেডাক বিভাগ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির যেসব কর্মী এখনো কোনো পেনশন স্কিমের আওতায় আসেননি, তাঁদের সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়লসর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংকগুলোর কমিশন বা প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি নিবন্ধনে ১৫ টাকা থেকে তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।এ ছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশনে ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং পেনশন তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ঝুঁকি ও লাভজনকতা নিয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি অডিটের পাশাপাশি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমেও অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তথ্যসূত্র: জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট সভার সিদ্ধান্ত।