মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।রোববার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির নতুন করে ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।একক উৎসে টোল আদায়ের চুক্তির অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেডকে (সিএনএস) একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করা হয় এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তি সম্পাদন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, সিএনএস লিমিটেডকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নয়, মোট আদায় করা টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে।অন্যদিকে, ২০১০ থেকে ২০১৫ মেয়াদে একই সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে দিতে ব্যয় হয়েছিল ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।৩০৯ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগমামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় টোল আদায়ের চুক্তি পায়। পাঁচ বছরের হিসাবে ওই ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১১২ কোটি টাকা।এই তুলনার ভিত্তিতে দুদকের অভিযোগ, সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।