দিনাজপুরে চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী নশিপুর গ্রামের একটি নারিকেল বাগান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।গ্রেপ্তাররা হলেন রিপন টুডু (৩৫), মোছা. জিন্নাতুন (১৯) ও সুজন টুডু (২০)।মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন।মামলার পর ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তারপুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশুটির নানা জমসেদ আলী কোতয়ালি থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের নির্দেশনায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল হালিম এবং ডিবির ওসি মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে যৌথ দল তদন্তে নামে।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পলাতক তিন আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।এজাহারে যে অভিযোগমামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জিন্নাতুনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের মেয়ে রাকিবাসহ অপহরণ এবং তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরে জিন্নাতুন বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত ৫ জুন রাত ৮টার দিকে রিপন টুডুর বসতঘরে তাকে মারধর করা হয়।এ সময় তার চার বছরের মেয়ে রাকিবাকে হত্যা করে বস্তায় ভরে অজ্ঞাত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে রিপন টুডুর বসতবাড়ির পাশের নারিকেল বাগান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।তথ্যসূত্র: দিনাজপুর জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য; মামলার এজাহার; দৈনিক আমার দেশ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।