নেত্রকোনার মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আজিজুল হকের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় তিন মাস কারাগারেও ছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে তিনি ওই কলেজেই কর্মরত রয়েছেন। মামলায় খালাস পাওয়ার দাবি করলেও তার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সাবেক কলেজ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৮ নভেম্বর দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজ বাসায় ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আজিজুল হকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ২১ নভেম্বর ওই ছাত্রী কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ২৪ নভেম্বর মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।অভিযোগের পর ২৬ নভেম্বর কলেজের তৎকালীন গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি প্রায় তিন মাস কারাগারে ছিলেন।বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যকলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার জানামতে, পরে ওই বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।কলেজের সাবেক প্রভাষক এবং বর্তমানে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েমও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাময়িক বরখাস্তের রেজুলেশনে তিনি ও আরও কয়েকজন শিক্ষক স্বাক্ষর করেছিলেন। তার জানামতে, পরবর্তী সময়ে বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।প্রভাষকের দাবি, খালাস পেয়েছেনতবে মুহাম্মদ আজিজুল হকের দাবি, ওই মামলায় প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর তিনি আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। তার ভাষ্য, কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্তের কোনো চিঠি দেয়নি এবং তার বেতনও কখনো বন্ধ হয়নি।জাতীয়করণের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছিল এবং সেই তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন আজিজুল হক।জাতীয়করণের পরও বহালকলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র বলেন, তিনি কয়েক মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। ঘটনাটি কলেজ জাতীয়করণের আগের। তার জানামতে, কোনো শিক্ষক এমন ঘটনায় জড়িত হলে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজটি ২০১৩ সালের ১৪ মে জাতীয়করণ করা হয়। এরপর আজিজুল হক কী প্রক্রিয়ায় চাকরিতে বহাল রয়েছেন এবং তার সাময়িক বরখাস্তাদেশের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তথ্যসূত্র: কলেজ সূত্র, সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক, সাবেক প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েম, বর্তমান অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র এবং প্রভাষক মুহাম্মদ আজিজুল হকের বক্তব্য; আমার দেশ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬।