জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে সহযোগিতা করতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে তাঁর অভিযোগ, সরকার বিরোধী দলের কথা শুনছে না। জনগণের দেওয়া রায়ও সরকার অস্বীকার করছে বলে দাবি করেন তিনি।বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ও পরের বিএনপি এক নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপি জনগণের দেওয়া একটি রায় মানছে, অথচ আরেকটি রায় মানছে না।‘অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে বিএনপি’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বারবার বিএনপিকে বলেছি, অঙ্গীকার থেকে সরে আসবেন না। কিন্তু তারা সেই জায়গায় থাকেনি। সংসদ চলে আইন ও বিধি দ্বারা। সেখানে ইচ্ছা করলেই আমরা একটা কিছু করতে পারি না।’জ্বালানি তেলের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দল থেকে পাঁচজন করে সদস্য নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হওয়ায় জনমনে তৈরি আতঙ্কও দূর হয়।গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা বন্ধজামায়াত আমির বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিয়ে তাঁরা সংসদে বহু নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু সেগুলো আলোচনায় আনা হয় না। সরকারের জন্য সুবিধাজনক নোটিশগুলোই কেবল আলোচনায় আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তাঁর ভাষ্য, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গার্মেন্ট মালিকরা জানিয়েছেন, সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় অনেক অর্ডার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে।বিএনপির কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি এক বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। কিন্তু নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, প্রতিদিনই নতুন করে মানুষ বেকার হচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে তাঁদের টেকনিক্যাল টিমের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবের কথাও জানান তিনি।তেলের দাম বাড়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগতেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এর প্রভাব শুধু জ্বালানি তেলের দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ফলে গাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত এর ব্যয় জনগণের পকেট থেকেই যায়। এ সময় অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের দামের তুলনা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।এমপি-মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর বিরোধিতাসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির পর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এটা মানব না। আমরা নিজেদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য আসিনি। এসেছি জনগণের খেদমতের জন্য।’‘লংমার্চের সাত দাবিই জনগণের’জামায়াতের লংমার্চের সমালোচনার জবাবে দলটির আমির বলেন, সাতটি দাবির একটিও দলীয় দাবি নয়; সবই জনগণের দাবি। এসব দাবি সংসদে আলোচনার সুযোগ না দেওয়ায় তাঁরা জনগণের কাছে গেছেন বলে জানান তিনি।মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা, আর্থিক সংকট ও নীতিমালার অভাবসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। এসব বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে তাঁরা আগেও সংসদে কথা বলেছেন। সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে সংসদে আলোচনা করতে সুবিধা হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, সাংবাদিকরা ভালো থাকুক। তাহলে দেশ ভালো থাকবে।’মতবিনিময় সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, ড. হেলাল উদ্দিন ও জাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।