চুল্লির ভেতরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সেফটি ভালভের সমস্যা কাটিয়ে জ্বালানি প্রবেশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ইউনিটে ধাপে ধাপে জ্বালানি ভরার কাজ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরের শেষ নাগাদ কেন্দ্রটির উৎপাদনে যাওয়ার খবর প্রকাশ হলেও বাস্তবে এ সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু নিয়ে সংশয় রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।আইইইএফএ-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পূর্ববর্তী রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয় এবং নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে খরচ বেড়ে যায়। তুলনামূলকভাবে রূপপুর প্রকল্প দ্রুত এগোচ্ছিল। তবে গত এক থেকে দুই বছরে এতে বিলম্ব দেখা দিয়েছে।তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করার সুযোগ নেই। সেটি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।’এক ইউনিট চালু হলে কমবে বিদ্যুৎ ঘাটতিচলতি গরমের মৌসুম প্রায় শেষ। আগামী গরমের মৌসুম শুরু হতে এখনো প্রায় পাঁচ মাস বাকি। এর মধ্যে রূপপুরের একটি ইউনিটও উৎপাদনে যেতে পারলে হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এতে বিদ্যুতের ঘাটতির একটি অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে লোডশেডিং ও জ্বালানি খরচও কিছুটা কমতে পারে।শফিকুল আলম বলেন, দ্রুত উৎপাদনে আনতে পারলে দেশের জন্যই ভালো। আগামী গরমের আগে কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা কমানো যাবে। তবে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার জন্য অন্য কোনো ক্ষেত্রে আপস করার সুযোগ নেই।চার দফা পিছিয়েছে উৎপাদনের সময়রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরুর সময় ২০১৭ সালে জানানো হয়েছিল, ২০২৩ সাল থেকে এখান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তবে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতা এবং স্বৈরাচার পতনকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে উৎপাদন শুরুর সময় চার দফা পিছিয়েছে।বর্তমানে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি ভরার প্রস্তুতি চলছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে জ্বালানি ভরার কাজ চলার কথা থাকলেও চলতি বছরেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।