বয়স ৯০ পেরিয়েছে। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, মুখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই জীবনসংগ্রাম। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে কয়েক মুঠো বাদাম নিয়ে বাজারে বসেন মালেকা বানু। বাদাম বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই চলে তার খাবার ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম।গাইবান্ধার দক্ষিণ হরিণসিংহা গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন মালেকা বানু। জীবনের এই সময়ে পাশে নেই সন্তান কিংবা আপনজনের নির্ভরতা। নিজের খাবারের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয়। কারও কাছে হাত পাততে চান না তিনি। তাই অল্প পুঁজি নিয়ে ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন বাজারে বাদাম বিক্রি করেন।সামান্য আয়েই চলে জীবনপ্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে মালেকার আয় খুবই সামান্য। কিন্তু এই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভর করে তার একবেলার খাবার এবং পরের দিনের বেঁচে থাকার আশা।একসময় তার স্বামীর জমিজমা ও সম্পদ ছিল। সময়ের সঙ্গে সব হারিয়ে এখন গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছেন তিনি। বার্ধক্য তাকে নুয়ে দিলেও কারও কাছে ভিক্ষার হাত বাড়াতে নারাজ মালেকা।তার ভাষায়, ‘৯০ বছর বয়সেও পরিশ্রম করে দুমুঠো খাবার খাই।’সহায়তার অপেক্ষায় বৃদ্ধামালেকা বানুর জীবনসংগ্রাম স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, জীবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছে একজন বৃদ্ধাকে দুমুঠো খাবারের জন্য এভাবে সংগ্রাম করতে হওয়া সমাজের জন্যও একটি প্রশ্ন।তাদের প্রশ্ন, ৯০ বছর পেরিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে কি এখনো জীবিকার জন্য বাজারে বসে বাদাম বিক্রি করতে হবে?মালেকা বানুর মতো অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার আওতায় এনে তার শেষ বয়সের জীবনকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক করা হবে।